ঢাকা ![]()
রাজধানীর বনানী থানার আওতাধীন একটি বাড়িতে সেফটি ট্যাংকি পরিষ্কার করতে গিয়ে সানিয়াত হুসাইন মাসনুন-এর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য, অসঙ্গতি এবং একাধিক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ০৩ জুলাই ২০২৬ (শুক্রবার)। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন-এর পক্ষ থেকে বনানী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় মোহাম্মদ রাব্বি এবং কাজের কন্ট্রাক্টর আরিফ হোসেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তবে বিভিন্ন সময়ে তাদের বক্তব্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। গণমাধ্যমকর্মীরা একাধিকবার তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ঘটনার বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। এবং যে মটরের মাধ্যমে মৃত্যু ঘটেছে ওই মোটরটি কোথা থেকে ভাড়া করে এনেছেন অথবা মোটরের মালিক কে এ বিষয়ে গণমাধ্যম কর্মীরা আরিফ হোসেনকে জিজ্ঞেস করিলে তথ্য দিতে অনিচ্ছুক প্রকাশ করেছেন। এদিকে ভিকটিমের বন্ধু রাব্বি হোসেনের বাসায় গণমাধ্যম কর্মীরা গেলে রাব্বি কে বাসায় খুঁজে পাওয়া যায়নি ফলে রাব্বির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থলের কেয়ারটেকার মোঃ শফিক জানান, আহত অবস্থায় সানিয়াত হুসাইন মাসনুন-কে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, হাসপাতালের মৃত্যু-সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে যে তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। এই দুই তথ্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
পরিবারের ভাষ্য, যদি হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে কেন হাসপাতালে ভর্তি করা হলো, কী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে কেন সরকারি হাসপাতালে রেফার করা হয়নি—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
ঘটনাস্থল হিসেবে আলোচিত বাড়িটির মালিক ব্যারিস্টার ফয়সাল আহমেদ পাটোয়ারী বলে কেয়ারটেকার মোঃ শফিক-এর মাধ্যমে জানা গেছে। এছাড়া বাড়িটির গাড়িচালক মোহাম্মদ শিমুল-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আংশিক কিছু তথ্য দিলেও নিজের পরিচয়ও প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক এবং তিনি জানান বাড়িওয়ালার কন্টাক নাম্বার ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে বাড়িওয়ালার পক্ষ থেকে নিষেধ রয়েছে তাই জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পরিবার ও গণমাধ্যমকর্মীদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারও কাছ থেকেই বাড়ির মালিকের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে বাড়ির মালিকের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি এবং তার প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি হাসপাতালের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য জানানো হলেও, চিকিৎসক ডাঃ রেহনুমা আনজুম কবির বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতের বাবা মোঃ মোশারফ হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ। হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ায় ঠিকমতো চলাফেরা কিংবা কথা বলতে পারেন না। এ কারণে ঘটনার প্রায় এক মাস পর এক প্রতিবেশীর সহায়তায় বনানী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বর্তমান সরকার এবং গণমাধ্যমের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, জীবনের শেষ সময়ে তিনি শুধু তার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চান। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে দোষী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং কেউ নির্দোষ হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করা হোক।
এদিকে এলাকাবাসী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট মহলের মধ্যেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। তাদের প্রশ্ন যদি ঘটনাটি অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে বনানী থানাকে কেন জানানো হয়নি কেন ময়নাতদন্ত করা হয়নি। অনেকের মতে, ময়নাতদন্ত হলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারত। তবে এসব বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
এই ঘটনার তদন্ত এখনো চলমান। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বাড়ির মালিক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।
এটি এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্বে উঠে আসবে আরও নতুন তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং তদন্ত-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়। বিস্তারিত জানতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।